Cvoice24.com

সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা: অর্ধশত শিশুর ইনফেকশন-রক্তক্ষরণ

উখিয়া-টেকনাফ প্রতিনিধি, সিভয়েস২৪
১১:৪৮, ৭ অক্টোবর ২০২৬
সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা: অর্ধশত শিশুর ইনফেকশন-রক্তক্ষরণ

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপে বিনামূল্যে সুন্নতে খতনা করানোর দুই দিনের মধ্যে অন্তত ৫০ শিশুর ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণের অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব শিশুকে চিকিৎসার জন্য সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রবিবার (৪ অক্টোবর) সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামে একটি সংস্থার উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। 

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করে। পরে শিশুদের বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতাল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই কর্মসূচিতে খতনা করানো ৫০ শিশু ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে আসে। তাদের মধ্যে মো. ফয়সাল ও আইনুল ইসলাম নামে দুই শিশুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের টেকনাফে রেফার করা হয়।

সেন্টমার্টিন দ্বীপ হাসপাতালের উপসহকারী কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খতনা করানো ৫০ শিশু চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে এসেছে। অনেকের ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ছিল। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় টেকনাফে পাঠানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী কয়েকটি পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, খতনা করানোর পর থেকেই কোনো কোনো শিশুর ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া ও পুঁজ দেখা দেয়। পরে কয়েকজনের ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হলে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, একটি মেডিকেল টিম ২১০ শিশুর বিনামূল্যে খতনা করেছে। দুই দিন পর কিছু শিশুর রক্তক্ষরণ দেখা দেওয়ায় তারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তিনি জানান, টেকনাফ হাসপাতালের চিকিৎসকদের একটি দল সেন্টমার্টিনে গিয়ে শিশুদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেবে।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নওশাদ আলম কানন বলেন, তাড়াহুড়ো করে কাজ করায় প্রয়োজনীয় পরিমাণ ড্রেসিং ও ব্যান্ডেজ যথাযথভাবে করা হয়নি বলে প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে। এর কারণে কিছু ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটতে পারে। 

তিনি আরও বলেন, তাদের একটি চিকিৎসক দল সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে। শিশুদের সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, খতনা করানোর পর বেশ কিছু শিশু অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।