Cvoice24.com


ইসলামে মাদক ও মাদকাসক্তদের প্রতি সতর্কবার্তা

০৯:৫২, ১৭ জুলাই ২০১৮
ইসলামে মাদক ও মাদকাসক্তদের প্রতি সতর্কবার্তা

বর্তমান সময়ের মারাত্মক সমস্যাবলির মধ্যে মাদক ও মাদকাসক্তি অন্যতম একটি। বিশেষত যুব সমাজের জন্য মাদক ও মাদকাসক্তি মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিনিয়ত এর বিষাক্ত ছোবলে আক্রান্ত হচ্ছে অসংখ্য সম্ভাবনাময় জীবন। সমাজের যাবতীয় পাপাচার, অন্যায়, বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতার অধিকাংশের মূলেই রয়েছে এই মাদক ও মাদকাসক্তি।

ইসলাম এই মাদক ও মাদকাসক্তির ব্যপারে সুনির্দিষ্ট সমাধান ও পালণীয় নীতিমালঅ প্রদান করেছে। মাদকের আভিধানিক অর্থ : মাদকদ্রব্যের আরবি প্রতিশব্দ হলো ‘খমর’ (خمر)। এর অর্থ- সমাচ্ছন্ন করা, ঢেকে দেয়া। এই সকল অর্থের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার কারণেই মদ ও শরাবকে ‘খমর’ বলা হয়। Cambridge Dictionary-তে বলা হয়েছে, An alcoholic drink which is usually made from grapes but can also be made from other fruits or flowers. It is made by FERMENTING, the fruit with water and sugar. মদ হল নেশাকর পানীয় যা সাধারণত আঙ্গুর থেকে তৈরী হয়। তবে অন্যান্য ফল ও ফুল থেকেও তৈরী হতে পারে। এটা উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য চিনি ও পানির মাধ্যমে ফল দ্বারা তৈরী হয়। মাদকের পারিভাষিক অর্থ : সহজ ভাষায় যে সকল বস্ত্ত সেবনে মাদকতা সৃষ্টি হয় এবং বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে অথবা বোধশক্তির উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে তাকে মাদকদ্রব্য বলে। একজন কবি মাদকের সংজ্ঞা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,মদ পান করে আমার বিবেক হারিয়ে গেছে। মদ এভাবেই বুদ্ধিকে নিয়ে খেল-তামাশা করে। সাধারণত নেশা জাতীয় দ্রব্যসামগ্রী গ্রহণ করা বা পান করাই মাদকাসক্তি। মাদকরে সংজ্ঞার মর্মে রাসূল [সা.] বলেছেন, মদ বা মাদকদ্রব্য তাই, যা জ্ঞান-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে।

কোরানের আলোকে মাদক ও মাদকাসক্তি :পবিত্র কোরানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘হে মুমিনগণ, এই যে মদ, জুয়া এবং ভাগ্য-নির্ধারক শরসমূহ (ভাগ্য-নির্ধারক ‘শর’ বলতে আরবে প্রচলিত এক ধরনের জুয়া বোঝানো হয়েছে) এসব শয়তানের কাজ বৈ অন্য কিছু নয়। অতএব, এগুলো থেকে দূরে থাক; যাতে তোমরা কল্যাণপ্রাপ্ত হও।’ [সুরা মায়িদা-৯০] পবিত্র কোরানে স্পষ্টভাবে মাদক ও সংশ্লিষ্ঠ সবকিছুকে শয়তানের জঘন্য কাজ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং এও বলা হয়েছে যে, মাদক মানুষের মাঝে শত্র“তা ছড়িয়ে দেয়। বর্ণিত আয়াতে মাদকের আরেকটি ভয়াবহ পরিণতির কথা বলা হয়েছে, মাদক মানুষকে মহান আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। আর যখন কোনো মানুষ সম্পূর্ণভাবে আল্লাহবিমুখ হয়ে যায়, তখন তার মাঝে নীতি-নৈতিকতা বলতে কিছু আর থাকে না। হাদিসের আলোকে মাদক ও মাদকাসক্তি : হজরত ইবনে ওমর [রা.] থেকে বর্ণিত, রাসুল [সা.] ইরশাদ করেছেন, ‘সকল নেশা জাতীয় দ্রব্যই ‘খমর’ তথা মদের অন্তর্ভুক্ত। আর সব ধরনের মাদকই হারাম’। [মুসলিম] আবদুল্লাহ বিন উমার [রা.] থেকে বর্ণিত, রাসুল [সা.] ইরশাদ করেছেন, ‘যদি কেউ মদ পান করে, আল্লাহ তার চল্লিশ দিনের নামাজ কবুল করেন না। আর যদি এ অবস্থায় সে মৃত্যুবরণ করে; তবে সে জাহান্নামি হবে। কিন্তু যদি সে লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দেবেন। এরপর যদি দ্বিতীয় বার মাদক গ্রহণ করে তাহলে তার চল্লিশ দিনের নামাজ কবুল হবে না। তবে যদি দ্বিতীয় বার তওবা করে,আল্লাহ তওবা কবুল করবেন। এরূপ যদি চতুর্থ বার সে পুনরায় মদ পান করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালার ওপর হক হয়ে যায় যে তিনি তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন’। হজরত ইবনে আব্বাস [রা.] থেকে বর্ণিত একটি হাদিস রয়েছে, রাসুল [সা.] ইরশাদ করেছেন, ‘মদ সব অশ্লীলতার মূল ও মারাÍক কবিরা গুনাহ। এও বলা হয়েছে যে ব্যক্তি মদ পান করল সে যেন আপন মা, খালা ও ফুফুর সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত হলো।’ [তবরানি]। মদের কুফল বর্ণনার ব্যাপারে এর চেয়ে মারাত্মক কথা আর কী হতে পারে! মাদক ও মাদকাসক্তির কুফল : ইসলামি দৃষ্টিকোণে মাদক ও মাদকাসক্তির নানাবিধ কুফল এবং ভয়াবহ পরিণাম তো রয়েছেই, পাশাপাশি সামাজিক এবং ব্যক্তিগত পর্যায়েও মাদকের ছোবল ভয়ংকর। যেকোন প্রকার মাদকদ্রব্য যা নেশা সৃষ্টি করে, সুস্থ মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটায় এবং জ্ঞান ও স্মৃতিশক্তি লোপ করে দেয়, তা হারাম বা নিষিদ্ধ, চাই তা প্রাকৃতিক হোক যেমন- মদ, তাড়ি, আফিম, গাঁজা, চরস, হাশিশ, মারিজুয়ান ইত্যাদি অথবা রাসায়নিক হোক যেমন- হেরোইন, মরফিন, কোকেন, প্যাথেড্রিন ইত্যাদি।

মাদক মানুষের শরীরে বিভিন্ন ক্ষতি সাধন করে থাকে। নেশাদ্রব্য গ্রহণের ফলে ধীরে ধীরে মানুষের হজম শক্তি বিনষ্ট হয়, খাদ্যস্পৃহা কমে যায়, চেহারা বিকৃত হয়ে পড়ে, স্নায়ু দুর্বল হয়ে যায়, শারীরিক ক্ষমতা লোপ পায়। আবার এমন অনেক মাদকদ্রব্য আছে, যা সম্পূর্ণরূপে কিডনী বিনষ্ট করে দেয়। মস্তিষ্কের লক্ষ লক্ষ সেল ধ্বংস করে ফেলে, যেটা কোন চিকিৎসার মাধ্যমেই সারানো সম্ভব নয়। মাদক সেবনের ফলে লিভার সিরোসিস রোগের সৃষ্টি হয়, যার চিকিৎসা দুরূহ। 

মাদক ও মাদকাসক্তির প্রতি রাসুল [সা.] –এর অভিসম্পাদ : মাদক ও মাদকাসক্তির সাথে সম্পর্ক রাখে এমন দশ শ্রেণীর লোকের প্রতি রাসূল (সা.) অভিশাপ করেছেন। ১. যে লোক মদের নির্যাস বের করে। ২. প্রস্তুতকারক। ৩. মদপানকারী। ৪. যে পান করায়। ৫. মদের আমদানীকারক। ৬. যার জন্য আমদানী করা হয়। ৭. বিক্রেতা। ৮. ক্রেতা। ৯. সরবরাহকারী এবং ১০. মাদক ব্যবসায় লভ্যাংশ ভোগকারী। 

সিভয়েস/এএইচ