Cvoice24.com
corona-awareness

আ.লীগে গুরুত্বপূর্ণ পদ না জুটলেও দলে থাকবেন চসিক নির্বাচনে বিদ্রোহীরা

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:১৫, ২১ জুন ২০২১
আ.লীগে গুরুত্বপূর্ণ পদ না জুটলেও দলে থাকবেন চসিক নির্বাচনে বিদ্রোহীরা

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনের আগে নানা হুঙ্কার দিলেও তাতে কান দেননি বিদ্রোহীরা। দলকে পাত্তা না দিয়ে জিতেও আসেন সাত বিদ্রোহী কাউন্সিলর। অনেকে ভেবে নিয়েছিলেন দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের দল থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। তবে কয়েক মাস পর কঠোর থেকে নমনীয় হয়েছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ। দলীয় সিদ্ধান্ত এসেছে তাদের বহিষ্কার নয়; শুধু দলে কোনও গুরুত্বপূর্ণ পদ পাবে না বিদ্রোহী প্রার্থীরা।

সেমাবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নগর আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় অংশগ্রহণ শেষে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ এসব কথা জানান। 

সভায় নগর আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা দিদারুল আলম চসিক নির্বাচনে বিদ্রোহী কাউন্সিলর প্রার্থীদের বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত কি— তা জানতে চাইলে মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, ‘অনেক জায়গায় দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে দলীয় মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে, বিশেষ করে দলের প্রতীক নৌকা যারা পেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন করেছে। সিদ্ধান্তে এসেছি, যারা দলের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি নির্বাচন করেছে তাদের কোনো পদে রাখা যাবে না। কমিটিগুলো যখন হবে এটাকে মাথায় রাখবেন।’

যদিও নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামে এসে বিদ্রোহীদের সরে আসার অনুরোধ করেছিলেন আওয়ামী লীগের এ নেতা। ওই সময়ে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘এখানে যারা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রার্থী হয়েছেন তাদেরকে আমরা বারবার অনুরোধ করেছি প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য। যারা এখনো তা করেনি তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে লিখিত সুপারিশ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে পাঠােনো হয়েছে। আমাদের ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবার কথা থাকলেও পেন্ডামিক সিটিউশনের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে একমাত্র সাংগঠনিক ক্ষমতা আছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সভানেত্রীর হাতে। আমরা আশা করছি, আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থার ঘোষণা আসবে।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘যারা বিদ্রোহী প্রার্থীদের মদদ দিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অনমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনও ছাড় নেই।’

নগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে নবীন-প্রবীণের সমন্বয় ঘটানোর কথা জানিয়ে মতবিনিয়ম সভায় চট্টগ্রামের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা হানিফ বলেন, ‘যারা বয়োজ্যেষ্ঠ তাদের আরও উঁচু পদে থাকতে হবে৷ যারা দলের সহযোগী সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ করে ৪০ ও ৫০ বছর পার করেছেন তাদের দলের মধ্যে নেওয়া হবে। আমাদের দরকার নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা। বিষয়টি নগরের নেতাদের মাথায় রাখতে হবে।’

আওয়ামী লীগে যোগদানের বিষয়ে মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বড় সংগঠন। দেশে লাখো, কোটি নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের রয়েছে। সে হিসেবে দলে যোগদানের প্রয়োজন নেই। যদি কেউ আসতে চায় যার বিরুদ্ধে অনৈতিকতার অভিযোগ, যুদ্ধাপরাধী রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই। সমাজে ভালো হিসেবে পরিচিত। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নকে বিশ্বাস করে তারা দলে যোগ দিতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় অনুমোদন সাপেক্ষে দলে যোগদান করা যেতে পারে। দলের নেতাদের ইচ্ছা হলে অন্য দলের কেউ যোগদান করার সুযোগ নেই।’

সভায় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়েশা খান, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন, যুগ্ম সম্পাদক ও সিটি মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরীসহ কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এরপর বিকেলে নগর আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় নেতাদের বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। 

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়