Cvoice24.com

চসিকের প্রথম সভার আলোচনায় আসন্ন বর্ষা

সিভয়েস প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯:১৩, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১
চসিকের প্রথম সভার আলোচনায় আসন্ন বর্ষা

নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। 

বিদায়ী পথে শীত। আর মাত্র কয়েকটা মাস কেটে গেলেই ঢুকে পড়বে বর্ষা। তখন নগর ডুবে থাকবে হাঁটু সমান পানিতে। অসময়ের বৃষ্টি হলে তো আর কথায় নেই। মাত্রা ছাড়িয়ে যাবে ভোগান্তি। সেই সাথে নগরজুড়ে চলছে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ। এমন পরিস্থিতিতে ভরা বৃষ্টির মৌসুম চলে এলে কি হাল হবে নগরের? অবশ্য বৃষ্টি-জোয়ারের জলাবদ্ধতার তিক্ত অভিজ্ঞতা নগরবাসীর জন্য পুরানো বিষয়। কিন্তু এবারে নগরীর মূল খাল ভরাট করে চলছে সিডিএর জলাবদ্ধতার নিরসন প্রকল্প। তাই এ বর্ষার সম্ভাব্য ভোগান্তি কীভাবে কমানো যায়- তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) নব নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সাধারণ সভায়।

এছাড়া গুরুত্ব পেয়েছে চসিক মেয়র এম. রেজাউল করিম চৌধুরীর নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত একশ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও চসিকের মালিকানাধীন ভূমি দখল রুখতে চসিকের করণীয় সম্পর্কেও আলোচনা হয়েছে এ সভায়। 

মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ সাধারণ সভায় নিজ নিজ ওয়ার্ডের সমস্যা মোকাবেলায় বিভিন্ন প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। নগরের থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। 

সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ‘অতীত নিয়ে কিছু বলতে চাই না। এখন যা আছে তা নিয়েই যাত্রা শুরু করে দিয়েছি। প্রথম একশ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিক জরুরি কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ডে পর পর দু’দিন মশক নিধন, পরিচ্ছন্নতাসহ জরুরি সেবামূলক কার্যক্রম চলবে। এই কাজে যারা নিয়োজিত তাদের তদারক ও নির্দেশনা দেবেন কাউন্সিলররা। নিয়োজিত জনবলের প্রতিদিনের নির্ধারিত কর্মঘন্টাকে তারাই কাজে লাগাবেন। সুযোগ পেলেই সকলে ফাঁকি দেয়। কেউ যাতে ফাঁকি দিতে না পারে সে ব্যাপারে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নজরদারি করতে হবে।’ কাউন্সিলররা যথাযথ তদারকি ও নজরদারি সঠিকভাবে করলে একশ দিনের কর্ম পরিকল্পনার সুফল নগরবাসী অবশ্যই পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। 

সাধারণ সভায় কাউন্সিলরদের উত্থাপিত মতামত, অভিযোগ ও পরামর্শের প্রেক্ষিতে মেয়র বলেন, ‘নীতি ও ন্যায্যতার প্রশ্নে কখনো মাথা নত করবো না। যে সকল অবৈধ দখলদার এবং নালা-নর্দমা-খালের উপর অবৈধ স্থপনা তৈরি করেছে তারা যতই ক্ষমতাবান হোন না কেন তাদের তিল পরিমাণ ছাড় দেয়া হবে না।’ 

নগরীতে হাইরাইজ ভবন নির্মাতাদের পাইলিংয়ের মাটি ভরা তরল বর্জ্য নালা-নর্দমা খালে ফেলে পানি প্রবাহ পথ ভরাট করার সমালোচনা করে মেয়র বলেন, ‘এরা বিবেক বর্জিত দুষ্ট প্রকৃতির অপদার্থ। তাদের কারণেই নালা-নর্দমা-খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এদের আইনের আওতায় এনে জরিমানাসহ বিধিবদ্ধ শাস্তিভোগ করতে হবে।’

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে মেয়র রেজাউল করিম বলেন, ‘করপোরেশনের জায়গায় কেউ হাত দিতে পারবে না। এসব জায়গা রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও আমানত। যারা এর কোন অংশ অন্যায়ভাবে হস্তগত করেছেন সেখান থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হবে।’ 

তিনি প্রশ্ন করেন, ফুটপাত থেকে বার বার হকারদের উচ্ছেদ করার পর আবার বেদখল হয়ে যায় কেন? ধীরে সুস্থে এই সমস্যার পরিকল্পিত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। আমি তগিঘড়ি করে লোক দেখানো কিছু করতে চাই না। 

জলাবদ্ধতা নিরসনে সেনাবাহিনীর তত্বাবধায়নে ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের ৪০ ভাগের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়েছে। 

এই প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বার্থে চাক্তাই খালসহ বিভিন্ন খালে কিছু স্থানে বাঁধ দেয়ায় পানি চলাচল রুদ্ধ হয়ে গেছে। তাই বর্ষা মৌসুমে ওভার-ফ্লো হতে পারে। একারণে এ বছরও জলাবদ্ধতা মুক্ত হওয়া যাবে না। তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের খালের যে অংশে বাঁধ দেয়া হয়েছে সেখানে পানি চলাচলের জন্য বিকল্প পথ তৈরি করে দেয়ার পরামর্শ দেন সিটি মেয়র।

এসময় সিটি মেয়র নাগরিক ভোগান্তি লাঘবে সমস্যাগুলো চিহিৃত করতে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই সাথে নির্বাচনী ইশতেহারে প্রতিশ্রুত ‘একশ দিনের অগ্রাধিকার’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার তাগিদ দেন। 

অন্যদিকে সংরক্ষিত (মহিলা) কাউন্সিলররা বলেছেন, ‘যেহেতু একাধিক ওয়ার্ড মিলিয়ে তাদের নির্বাচনী এলাকা, তাই উন্নয়নমূলক কাজে সমন্বয়ের ব্যাপারে জোর দিতে হবে।’

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, প্রথম সভায় ঘুরে ফিরে আলোচনায় ছিলো একশ দিনের অগ্রাধিকার পরিকল্পনার বিষয়টি। সেখানে গুরুত্ব পেয়েছে জলবদ্ধতা নিরসন, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম। এছাড়াও আলোচনা হয়েছে করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসাসহ বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বয় গড়ে তোলার ব্যাপারেও। সিটি করপোরেশন অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয় করে জনসেবা নিশ্চিত করতে তাগাদা দিয়েছেন মেয়র রেজাউল। অবশ্য এর আগে বিভিন্ন বক্তব্যে মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী আশ্বাস দিয়েছেন এসব কার্যক্রমে বিশেষ মনোযোগ দিবে সিটি করপোরেশন। 

প্রথম সভায় নিজেদের নির্বাচনী এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো তুলে ধরে বিভিন্ন প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলররা। স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের মধ্যে প্রস্তাবনা তুলে ধরেন ১৬নং চকবাজার ওয়ার্ডের গোলাম হায়দার মিন্টু, ১৭নং পশ্চিম বাকলিয়া ওয়ার্ডের শহীদুল ইসলাম, ১৯ নম্বর দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ডের নুরুল আলম মিয়া। ৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডের মো. মোবারক আলী, ৮নং শুলকবহর ওয়ার্ডের মো. মোরশেদ আলম, ১৮নং পূর্ব বাকলিয়া ওয়ার্ডের মো. হারুন উর রশীদসহ অকেকেই। নারী কাউন্সিলর মধ্যে বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন রুমকি সেন গুপ্ত ও আফরোজা কালাম।

ষোলশহর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. মোবারক আলী এবং দক্ষিণ বাকলিয়া ওয়ার্ড কাউন্সিলর ভূমি দস্যুদের উৎপাত রুখতে সিটি করপোরেশনকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান। তারা বলেছে, এ দু’টি ওয়ার্ডসহ নগরীর বিভিন্ন জায়গা বেদখল করে গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ স্থাপনা। বাকলিয়ার চর চাক্তাই এলাকাই একটি সুবিশাল গ্যারেজও গড়ে তোলা হয়েছিল। অবশ্য এসব অবৈধ স্থাপনা নিজ উদ্যোগে অপসারণ করেছেন বলে জানিয়েছেন এ দু’জন কাউন্সিলর। কিন্তু সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন জায়গাগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অনুরোধ জানান কাউন্সিলরা।

অন্যদিকে মেয়র রেজাউলের নির্বাচনী ইশতেহারে একশ দিনের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বলা হয়েছিল— ‘জলাবদ্ধতা নির্মূল মহাপরিকল্পনা ও নগর উন্নয়নে ডেল্টা প্ল্যান সঠিকভাবে বাস্তবায়নে যাতে নূন্যতম বাধা ও দীর্ঘসূত্রিতা না হয়, সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থা ও সেনাবাহিনীর দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্চিনিয়ারিং কোরের সাথে বসে তা তদারকের অগ্রাধিকার দিব। নগরের দখলকৃত খাল, নালা, নদী পুনরুদ্ধার ও পানি নিষ্কাশন উপযোগী করতে নির্বাচিত হলে ১০০ দিনের মধ্যে সব ত্রুটি ও প্রতিবন্ধকতা চিহিৃত করে তা নির্মূলে আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করব।’

প্রসঙ্গত, গত ২৭ জানুয়ারি চসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন রেজাউল করিম চৌধুরী। ১১ ফেব্রুয়ারি তিনি শপথ নেন। ওই হিসেবে শপথের ১২তম দিনে প্রথম সাধারণ সভা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) অ্যাক্ট ২০০৯ অনুযায়ী, মেয়র ও কাউন্সিলরগণের শপথ গ্রহণের ৩০ দিনের মধ্যে প্রথম সাধারণ সভা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এর আগে আ.জ.ম নাছির উদ্দীনের নেতৃত্বাধীন পঞ্চম পর্ষদের প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ৫ আগস্ট। ২০২০ সালের ১১ মার্চ পর্ষদটির সর্বশেষ সাধারণ সভা হয়েছিল। 

-সিভয়েস/এপি/এমএম

Add

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়