Cvoice24.com

বি-স্ক্যান চেঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাসেল

সিভয়েস২৪ ডেস্ক
১৩:৩৬, ২৬ জুলাই ২০২৬
বি-স্ক্যান চেঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬ পেলেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রাসেল

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মর্যাদা, অন্তর্ভুক্তি ও জীবনমান উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও উদ্যোগকে স্বীকৃতি জানাতে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর দ্য চেঞ্জ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি নেক্সাস (বি-স্ক্যান) আয়োজিত ‘বি-স্ক্যান চেঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর চূড়ান্ত বিজয়ী হয়েছেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী মোহাম্মদ রাসেল। ফেসবুকভিত্তিক জনমত জরিপে সর্বাধিক ভোট পেয়ে তিনি এ সম্মাননা অর্জন করেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) বি-স্ক্যানের ১৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়।

মোহাম্মদ রাসেলের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট এবং ১০ হাজার টাকার প্রতীকী চেক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।

মোহাম্মদ রাসেল একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আইটি প্রশিক্ষক, প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী ও সংগঠক। গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি তথ্যপ্রযুক্তিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন।

এ পর্যন্ত তিনি ১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে কম্পিউটার, স্ক্রিন রিডার প্রযুক্তি, স্মার্টফোন অ্যাক্সেসিবিলিটি, আইসিটি দক্ষতা এবং কর্মসংস্থানমুখী বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। তার দীর্ঘদিনের এ অবদান বাংলাদেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন গ্রামীণ হেলথটেক লিমিটেডের চিফ টেকনোলজি অ্যান্ড বিজনেস অফিসার মো. সোলায়মান রাসেল এবং সাবেক ব্যাংকার ও প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে সহযোগী লিয়াকত আলী খান চন্দন।

বি-স্ক্যান জানায়, গত ৫ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত সংগঠনটির ফেসবুক গ্রুপ ও পেজের মাধ্যমে ‘বি-স্ক্যান চেঞ্জমেকার অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এর জন্য মনোনয়ন আহ্বান করা হয়। প্রাথমিক জনমত জরিপে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখা ২১ জন প্রতিবন্ধী নেতার নাম উঠে আসে। পরে নির্বাচন কমিটির যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জন চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।

পরবর্তীতে ফেসবুক গ্রুপ, ফেসবুক পেজ এবং গুগল ফর্মের মাধ্যমে উন্মুক্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। মোট ২ হাজার ৪৪৬টি ভোটের মধ্যে ৭৯০ ভোট পেয়ে মোহাম্মদ রাসেল বিজয়ী নির্বাচিত হন।

বি-স্ক্যানের মতে, সমাজ পরিবর্তনে নিবেদিত মানুষের কাজের স্বীকৃতি শুধু তাদের অবদানকে মূল্যায়নই করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক সমাজ গঠনে অনুপ্রাণিত করে।

উল্লেখ্য, বি-স্ক্যান একটি নারী নেতৃত্বাধীন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সংগঠন (ওপিডি)। ২০০৯ সাল থেকে সংগঠনটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, সার্বজনীন প্রবেশগম্যতা, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং নীতিপর্যায়ের অ্যাডভোকেসিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছে।

প্রেস রিলিজ সব খবর