স্বপ্নের বাড়ি : হোমলোন পাবেন কীভাবে?
আজাদ মঈনুদ্দীন
বেশিরভাগ মানুষ সারাজীবন একটি সুন্দর বাড়ির স্বপ্ন দেখেন। অন্ততপক্ষে একটি পছন্দের ফ্ল্যাটে হলেও বসবাসের আশায় থাকেন। তাই বাড়ির সাথে ‘স্বপ্ন’ শব্দটি জড়িয়ে আছে ওতপ্রোতভাবে । কিন্তু এক সাথে এতগুলো টাকা জোগাড় করে একটি বাড়ি নির্মাণ কিংবা ফ্ল্যাট কেনার আশা দুরাশা হয়ে থাকে বেশিরভাগ সময়।
সাধ আর সাধ্যের টানাপোড়েনে ভরসার জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। একটি স্বপ্নপূরণের জন্য এখন আর বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকতে হবে না। মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের জন্য ব্যাংকগুলো অফার করছে সহজশর্তে হোমলোন। সেমিপাকা ঘরের জন্যও ঋণ দিচ্ছে কেউ কেউ।
কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না কীভাবে এই ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়। কী যোগ্যতা থাকা লাগে হোম লোন পাওয়ার জন্য? ঋণ পাওয়ার জন্য কী কী কাগজপত্র থাকা জরুরি ?
এর আগে কিছু প্রয়োজনীয় বিষয় সম্পর্কে ধারণা নেওয়া যাক। হোম লোন হিসেবে সর্বোচ্চ কত টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাওয়া যায়? এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের যে নীতিমালা রয়েছে তাতে সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা পর্যন্ত হোম লোন সুবিধা দেওয়া যায়।
আরেকটু সহজ করে বলা যায় যে, বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কিনতে চান তাতে ১০০ টাকা খরচ হলে ব্যাংক ৭০ টাকা ঋণ দিতে পারে। কেউ এক কোটি টাকায় বাড়ি করতে চাইলে ৭০ লাখ টাকা ঋণ পাওয়া যাবে। তবে এই ঋণসীমা ২ কোটি টাকার বেশি হতে পারবে না। বাকী খরচ ক্রেতা তথা গ্রাহককে বহন করতে হবে।
আবার ক্রেডিট কার্ড কিংবা পারসোনাল লোন বাবদ গ্রাহকের মাসিক কিস্তি বেশি হয়ে গেলে ব্যাংক তখন ঋণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এটাকে ডেব বার্ডন রেশিও (ডিবিআর) বলা হয়।
ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ২৫ বছরের জন্য এই সুবিধা দিতে পারে। তবে গ্রাহকের বয়স ঋণের মেয়াদসহ ৬৫ বছরের বেশি হতে পারবে না। অর্থাৎ ৫০ বছর বয়সে কোন গ্রাহক ঋণ নিতে গেলে তার ঋণের মেয়াদ ১৫ বছরের বেশি হবে না।
চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী কিংবা বাড়িভাড়া থেকে আয় করা লোকজন হোম লোন সুবিধা নিতে পারেন। তবে বেশিরভাগ ব্যাংক এই সুবিধা নেওয়ার জন্য সর্বনিম্ন আয় কত হতে হবে তার একটি বিধি নিষেধ রেখেছে। মাসিক আয়ের একটি বড় অংশ ব্যাংক হিসাবে জমা করার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। বেশিরভাগ ব্যাংকে সর্বনিম্ন ঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদসীমা ২৫ বছর।
শুধু বহুতল ভবন কিংবা ফ্ল্যাট নয় এনসিসি ব্যাংকসহ আরো কয়েকটি ব্যাংক সেমিপাকা ঘরের জন্যও গৃহঋণ দিচ্ছে। এই ঋণের সুবিধা হলো অনুমোদিত নকশা প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকে না।
এবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে আসা যাক। ভালো মানের ব্যাংকগুলো হোম লোনের জন্য তিনটি প্রধান শর্ত অনুসরণ করে।
১) ঋণগ্রহীতার ঋণ পরিশোধ করার মত স্ট্যান্ডার্ড মাসিক আয় থাকতে হবে
২) বহুতল ভবনের ক্ষেত্রে সরকারি যথাযথ অথরিটি থেকে অনুমোদিত প্ল্যান থাকতে হবে
৩) যে ফ্ল্যাট কিনবেন কিংবা যে বাড়ি নির্মাণের জন্য ঋণ নেবেন সেটির ছাদ হতে হবে।
একটু নিয়ম মেনে চললে এবং কাগজপত্র ঠিকঠাক রাখলে সহজ শর্তে যেকোনো ব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়া যায়।
হোম লোন নিতে যেসব কাগজপত্র লাগবে
হোম লোনের জন্য আবেদনের সাথে গ্রাহককে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, আয়সম্পর্কিত কাগজপত্র, এক বছরের ব্যাংক স্টেটমেন্ট, হালনাগাদ ই-টিআইএন ও ট্যাক্স রিটার্ন কপি, জমির মালিকানা সংক্রান্ত দলিলের ফটোকপি, নামজারি খতিয়ান, হালনাগাদ খাজনাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হয়। আরও লাগবে সিএস, এসএ, আরএস, বিএস খতিয়ানের সত্যায়িত কপি।
ফ্ল্যাট ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে ডেভেলপারের সঙ্গে সম্পাদিত ক্রয় চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি দিতে হবে। লাগবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত নকশার সত্যায়িত ফটোকপি ও অনুমোদনপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি। বড় শহরগুলোতে রাজউক, সিডিএ’র মত সংস্থাগুলো, উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা পরিষদের কমিটি ভবনের নকশা অনুমোদন দিয়ে থাকে।
আরো যা জানা দরকার
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাসটেইনেবল ব্যাংক হিসাবে তালিকাভুক্ত এনসিসি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকলে সহজেই হোমলোন পাওয়া যায়। গ্রাহকেরা ৫ থেকে ২৫ বছর মেয়াদে সহজ কিস্তিতে এই লোন পরিশোধ করতে পারবেন। শুধু তা-ই নয়, একজন গ্রাহক চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ বা আংশিক লোন পরিশোধ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার ‘হিডেন চার্জ’ নেই। এভাবে স্বচ্ছতা বজায় রেখে গ্রাহকদের আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক হয়ে উঠেছে এনসিসি ব্যাংক।’
গ্রাহকের সুযোগ-সুবিধার কথা বিবেচনা করে এনসিসি ব্যাংক সব সময় বাজারের সেরা রেটে হোম লোন অফার করে থাকে। বর্তমানে ১১.৯০ শতাংশ হারে হোম লোন দিচ্ছে এনসিসি ব্যাংক। যা বর্তমান সময়ে তুলনামূলক সবচেয়ে কম রেট। তাছাড়া সেমিপাকা ঘর নির্মাণের জন্যও আবাসন লোন দিচ্ছে এনসিসি ব্যাংক। যার বড় সুবিধা পাবেন গ্রাম পর্যায়ের গ্রাহকেরা।
লেখক— ব্যাংকার

আরো জানতে—
azad@gmail.com
01974-757677
কলম সব খবর















